Health Tips BD

Get health tips, latest health news, articles and studies on all health-related concerns, read the latest news related to health care and fitness.

Health Tips BD
  • Home
  • Fitness
  • Eye Care
  • Health Care
  • Health Tips
  • Healthy Food
  • Baby Care Tips
    • Kids Health
    • Kids Food

 নাক দিয়ে রক্ত পড়লে সোজা হয়ে একটু সামনের দিকে ঝুঁকে চেয়ারে বসুন। বৃদ্ধাঙ্গুল ও শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে নাকের দুই ছিদ্র জোরে বন্ধ করুন। মুখ দিয়ে শ্বাস নিন। এভাবে ১০ মিনিট ধরে রাখুন। এ সময় আঙ্গুল ছাড়বেন না প্রয়োজন হলে আরো বেশি চাপ দিয়ে ধরে রাখুন। এ সময় সম্ভব হলে কপালে, নাক এর চারপাশে বরফ ধরে রাখুন।

তাহলে রক্ত পড়া তাড়াতাড়ি বন্ধ হবে। যদি রক্ত ১৫-২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে পড়তে থাকে, তবে দেরি না করে পাশের হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগে চলে যান। নাকে আঘাত জনিত রক্ত পড়া বন্ধ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ নাকের হাড় ভেঙেছে কিনা তা দেখা জরুরি। বারবার রক্ত পরলে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ-এর শরণাপন্ন হন।


- যতই খেতে ইচ্ছে করুক , খাবারের তালিকায় কোনো রকম কোমলপানীয় রাখবেন না। কারণ এতে চিনি ছাড়া তেমন কিছুই থাকে না। - ফাইবার যুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় বেশি রাখুন। কারণ পুষ্টি আপনি এখান থেকেই পাবেন। - খাদ্যতালিকায় কার্বস রাখুন। কারণ কার্বোহাইড্রেট আপনাকে শক্তি দেবে। - দিনে অন্তত ৪ লিটার পানী পান করুন। কারণ পানি শরীরের আদ্রতা বজায় রাখা জরুরি। এছাড়াও পানি বেশি পান করলে অন্যান্য স্ন্যাকস খাওয়ার ইচ্ছে করবে অনেকটা। - ফ্যাট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু সব ফ্যাট শরীরের জন্য খারাপ নয়। তাই ওজন কমাতে ফ্যাট একেবারেই বন্ধ করবেন না। বাদাম খাবেন। বাদামের মধ্যে থাকা ফ্যাট মাতৃদুগ্ধ উৎপাদনে সাহায্য করে। এছাড়াও হার্ট ভালো রাখে। - খাবার অল্প করে খান। কিন্তু বারে বারে খান। দুটি খাবারের মাঝে বেশি গ্যাপ রাখবেন না। - মনেকরে ব্রেকফাস্ট অবশ্যই করবেন। বাদাম, গাজর, ফল এসব দিয়ে ব্রেকফাস্ট বানানোর চেষ্টা করুন। চিপস, পেস্ট্রি, চকোলেট থেকে লোভ সংবরণ করুন। - প্রয়োজনে ডায়াটেশিয়ানের পরামর্শ নিন। নিজের মতো করে কোনো ডায়েট প্লান তৈরি করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।


 

সদ্যোজাত শিশুকে কীভাবে শোয়াব, কী রকম বালিশ ব্যবহার করব, কেমন করে শোয়ালে মাথা গোল আর সুন্দর হয়—এমন নানান ভাবনা অনেকের মধ্যে রয়েছে। ঠিকভাবে না শোয়ানো হলে শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়।

পশ্চিমা দেশগুলোতে সদ্যোজাত শিশুরা মায়ের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমায় না, তাদের জন্য আলাদা বিছানা থাকে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, বাচ্চারা মায়ের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমালে কোনো ক্ষতি নেই।

বরং এতে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে অর্থাৎ হঠাৎ শরীরের তাপ কমে গিয়ে বিপদ ঘটে না। আবার মায়ের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানোর ফলে বুকের দুধ খাওয়ানোও সহজ হয়। শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে,

যেন কাত বা চিত করে শোয়ানো হয়। কখনোই উপুড় করে শোয়ানো উচিত নয়। উপুড় করে শোয়ালে বাচ্চার নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বুকেও চাপ লাগতে পারে।

নির্দিষ্ট একটি দিকে কাত করে অনেকক্ষণ না রেখে মাঝেমধ্যে এপাশ-ওপাশ করে দিন। অবশ্য যদি কখনো বমি বেশি হয়, তখন বাম দিকে কাত করে শোয়ালে ভালো হয়।

অনেকেই বাচ্চাকে কোলে দুলিয়ে ঘুম পাড়ান; এতে পরে অসুবিধা হয়। কারণ এতে সে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বিছানায় শোয়ালেই জেগে ওঠে। শরীর খারাপ থাকলে,

বিশেষ করে পেটে ব্যথা হলে শিশুদের ঘুমের সমস্যা হয়। তখন কোলে নিয়ে কাঁধে মাথা রেখে ঘুম পাড়ালে আরাম পায়।

শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালো হলো বালিশ ছাড়া আরামদায়ক বিছানায় শোয়ানো। বালিশ ব্যবহার করলে ঘুমানোর সময় শিশুর ঘাড় ও গলা বেঁকে যায় বা ভাঁজ পড়ে, এতে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়।

বাচ্চার যদি ঘুমের মধ্যে নাকে শব্দ হয়, তবে বুঝতে হবে শ্বাসনালিতে বাধা তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গলায় বা নাকে কিছু আছে কি না, দেখে সেটা পরিষ্কার করে দিন। শিশুকে বিছানার যে পাশে দেয়াল আছে, সেদিকে শোয়ান।

 

  • শিশুর খাদ্য

সন্তানের স্বাস্থ্য সঠিক রেখে তাকে পৃথিবীর আলো দেখানো সব মায়ের কাছেই এক চিন্তার বিষয়। কিন্তু সবসময় তা হয়ে ওঠে না। কম ওজনের সন্তানের স্বাস্থ্যও তেমনই এক চিন্তার বিষয় সব মায়েদের কাছেই। জন্মের সময় শিশুর ওজন ২৫০০ গ্রামের কম হলে তা আন্ডারওয়েটের লক্ষণ।

কিন্তু আন্ডারওয়েট শিশুর স্বাস্থ্য স্বাভাবিক করে তুলতে বিজ্ঞান বাতলে দিচ্ছে অনেকরকম উপায় যা অবলম্বন করলে আপনার শিশু তিনমাস বা তার কম সময়েই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারে। ১। ব্রেষ্ট ফিডিং শিশুকে সঠিক ওজন জোগাতে ব্রেষ্ট ফিডিং সবথেকে ভালো উপায়। প্রিম্যাচিউরড শিশু আর কম ওজনের শিশু কিন্তু এক নয়। কিন্তু কম ওজনের শিশুরা সহজে ব্রেষ্ট ফিডিং করতে পারে না।

এক্ষেত্রে মায়েরা তাদের উৎসাহিত করতে পারেন। বাচ্চার ঠোঁটে স্তনদুগ্ধের ফোঁটা ফেলে অথবা তার ঠোঁটে স্তনের বৃন্ত রেখে তাকে খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করুন। যদি একান্তই সে খেতে না চায়, তবে মায়েরা ছোট স্টেরিলাইজড কাপ ব্যবহার করতে পারেন। এতে বুকের দুধ সঞ্চয় করে তা খাওয়ান। দু ঘন্টা অন্তর শিশুকে অবশ্যই দুধ খাওয়ান।

২। শিশুর উষ্ণতা খেয়ালে রাখুন কম ওজনের শিশুর পক্ষে তার শরীরের উষ্ণতা তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। তাই এক্ষেত্রে দরকার আপনার বিশেষ মনোযোগ। শিশুর মাথা থেকে তার দেহের উষ্ণতার সবচেয়ে বেশি অংশ শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। তাই মাথা সঠিকভাবে ঢেকে রাখুন যাতে সহজে শরীর তাপ না হারায়। গরমের সময় বেশি কাপড় দিয়ে শিশুর শরীর ঢাকবেন না। ডাইপার পাল্টানোর সময় কখনোই শিশুর নিম্নাঙ্গের কাপড় সম্পূর্ণ খুলবেন না।

চেষ্টা করুন সবসময় আপনার শরীরের কাছে তাকে রাখতে। আপনার তাপের সঙ্গে তবেই ও ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পারবে। ৩। খোলা ঘরে রাখবেন না শিশুর ঘর সবসময় বন্ধ করে রাখুন। বাইরের দূষিত হাওয়া কম ওজনের শিশুর জন্য মোটেই ভালো না। এতে শ্বাসনালীর ইনফেকশন , বুকের ইনফেকশন ইত্যাদি সহজেই হয়‌। বাইরের কোনওরকম জীবাণু যাতে ঘরে না ঢুকতে পারে তার জন্য বাইরের লোকের আসা যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন। এটা শুনতে খারাপ লাগলেও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য তাকে বাইরের ইনফেকশন থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

কম ওজন হওয়ায় শিশুর ইমিউনিটি লেভেল বা প্রতিরোধ শক্তি দুর্বল থাকে, তাই বাইরের হাওয়া কিন্তু কখনোই নয়। ৪। খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন মায়ের খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ এই সময়ে শিশুর জন্য অত্যন্ত জরুরি। আপনার খাবারের প্রভাব আপনার শিশুর উপর পড়বেই। আপনার রোজকার খাবারের রুটিন থেকে বাদ দিতে হবে যেকোনও রকমের স্পাইসি খাবার, খাবারে রাখুন বেশি পরিমাণে প্রোটিন ও কার্বস।

পিজা, বার্গার, রোল, চাউমিন তো নয়ই, বাদ দিতে হবে সবরকম স্পাইসি মশলাও। কম ওজনের শিশুর হজমশক্তি দুর্বল হয়, তাছাড়া মশলাদার খাবার মায়েরা খেলে তার প্রভাব দুধে পড়ে, যা ক্ষুদ্রান্ত্রের ইনফেকশন ঘটাতে পারে। তাই তিনমাস পর্যন্ত , যতদিন শিশুর ওজন সঠিক হচ্ছে, মায়েরা এড়িয়ে চলুন এই ধরনের খাবার।

৫। খাবারে থাকুক মিনেরেলস্ মায়ের খাবারে এইসময় বেশি পরিমাণে মিনেরেলস্ থাকা উচিত। এই মিনেরেলস দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে যায়। শিশুর হাড়কে মজবুত করে ও ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। মায়েদের খাবারে এই সময় আয়রন, ফোলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ভিটামিনসের মাত্রা বেশি থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।

কিন্তু তার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার। বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য এখন কিছুই অসম্ভব নয়। তাই শিশু কম ওজনের হলেও মায়েদের চিন্তার অবসান হোক। খুব কমদিনেই এই উপায়গুলির মাধ্যমেই শিশুকে সুস্থ ওজন ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তোলা যায়।


 

  • শিশুর খাদ্য

বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন জন্মের পর থেকে ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে কেবল মায়ের দু’ধ খাওয়াতে হয়৷ তাই দেখে নিন শিশুকে বুকের দু’ধ খাওয়ানোর দিনগুলোতে মা’দের কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত নয়৷

টকজাতীয় ফল

সাধারণত টকজাতীয় ফল নতুন মায়ের শরীরের জন্য ভালো, কেননা, এতে প্রচুর ‘ভিটামিন সি’ থাকে৷ তবে কিছু কিছু শিশু ‘ভিটামিন সি’ সহ্য করতে পারে না৷ ফলাফল শিশুদের ডায়রিয়া দেখা দেয়৷ অর্থাৎ ‘ভিটামিন সি’- তে শিশুটির অ্যালার্জি আছে৷ তখন মায়ের করণীয় টক ফল খাওয়া বন্ধ করা৷

চা বা কফি

অল্প পরিমাণে চা-কফি পান করা যেতে পারে৷ কিন্তু দিনে ২-৩ কাপের বেশি চা-কফি পান করলে মায়ের শরীর থেকে দু’ধের মাধ্যমে শিশুর শরীরেও ছড়িয়ে পড়বে ক্যাফিন৷

সামুদ্রিক মাছ

সামুদ্রিক মাছে পারদের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে৷ আর কোনো মা যদি বেশি সামুদ্রিক মাছ খান তবে তার দুধেও পারদের পরিমাণ বেড়ে যায়৷ আর এই দুধ খেলে শিশুর স্বাস্থ্যহানি হতে পারে৷

পিপারমেন্ট

ধারণা করা হয়, পিপারমেন্টে মায়ের স্ত’নে দু’ধের পরিমাণ বাড়ে৷ তবে এটা এখনো প্রমাণিত হয়নি৷ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও মাদক অধিদপ্তর পিপারমেন্টকে মা’তৃস্বা’স্থ্যের জন্য নিরাপদ হিসেবে অনুমোদন করেছে৷ তবে স’ত’র্কও করেছে এই বলে যে, মাত্রাতিরিক্ত পিপারমিন্ট গ্রহণ করলে মায়ের হৃ’দস্প’ন বে’ড়ে যাওয়া, অ্যালার্জি ও মা’থাব্য’থা হতে পারে, যা শিশুর দে’হে প্রভাব ফেলবে৷

ম’দ্য’পান

৯ মাসের অপেক্ষার অবসান৷ শিশু জন্মের পর সপ্তাহে এক ‘পেগ’ ম’দ্য’পান করা যেতেই পারে৷ তবে, যুক্তরাষ্ট্রের হেল্থ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের অধ্যাপক ডাক্তার জ্যাক নিউম্যানের মতে, এর চেয়ে বেশি পরিমাণে ম’দ্য’পান করলে শিশুর স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে৷

চকলেট

থিওব্রোমিন নামে একধরণে পদার্থের উপস্থিতি আছে চকলেটে, যেটা অনেকটা ক্যাফিনের মতোই৷ দিনে ৭৫০ মিলিগ্রামের বেশি থিওব্রোমিন গ্রহণ করলে শিশুর ঘুমে ব্যাঘাত বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে৷

ভেষজ চা

অনেকেই মনে করেন, ভেষজ চা খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় আর দুধ উৎপাদনের মাত্রা বাড়ে৷ তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখনো তা প্রমাণ করতে পারেনি৷ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও মাদক অধিদপ্তর এটা মায়েদের জন্য অনুমোদন করেনি, কেননা, এর বিশুদ্ধতা, নিরাপত্তা ও এটা কতটা শক্তিশালী এসব সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নয়৷ তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, নতুন মায়েদের ভেষজ চা না খাওয়াই ভালো৷

চীনা বাদাম

যদি পরিবারে কারো চীনা বাদামে অ্যালার্জি থাকে, তবে চীনা বাদাম খাওয়া থেকে মায়ের বিরত থাকা উচিত৷ চীনা বাদামে এমন কিছু প্রোটিন আছে যা অ্যালার্জির কারণ৷ এই প্রোটিন বুকের দুধের সাথে শিশুর দেহে প্রবেশ করে৷ তাই তখন তার দেহে লালচে দাগ দেখা যায়৷



 

  • শিশুকে শিক্ষানীয়

‘মিতুল, প্রতিদিন সকালে তুমি অসম্ভব বিরক্ত করো আমাকে। সব কাজে এত লেট করো, স্কুল থেকেও তোমার ব্যাপারে ভালো রিপোর্ট পাচ্ছি না। এ রকম চলতে থাকলে তোমার বাবাকে বলব ব্যবস্থা নিতে। আমি আর পারছি না।’ চিৎকার-চেঁচামেচি করে বলা এই কথাগুলো নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে মিতুলের জীবনে। কিন্তু কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে মা-বাবা আরও হতাশ হয়ে পড়ছেন এবং মিতুলেরও সবকিছুর প্রতি আগ্রহ দিন দিন কমছে।

আসুন, আমরা একটু ভেবে দেখি পরিবারে, অফিসে কিংবা বন্ধুদের মাঝে কী ধরনের কথা প্রতিনিয়ত আমাদের শুনতে হয়। নেতিবাচক কথা শুনলে আমাদের কেমন লাগে এবং প্রশংসা আমাদের মধ্যে কেমন অনুভূতি তৈরি করে।

মা-বাবা হিসেবে সন্তানের মঙ্গল আমরা সব সময় কামনা করি। ওদের ভালো চাই। বর্তমান প্রতিযোগিতার যুগে মা-বাবা সারাক্ষণ ছেলেমেয়েকে নিয়ে তটস্থ থাকেন, কীভাবে তাদের আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। অভিভাবকেরা যখন দেখেন পাশের বাসায় তাঁদের সন্তানের সমবয়সী কেউ অথবা কোনো আত্মীয়র ছেলেমেয়ে খুব ভালো ফলাফল করছে তখন মা-বাবা একধরনের তাড়না অনুভব করেন। যার ফলাফল অনেক সময় দাঁড়ায় নেতিবাচক ভাষার প্রয়োগে।

‘তোকে দিয়ে কিছুই হবে না। ওদের দেখে শিখতে পারিস না?’ এ কথাগুলো আমরা অহরহ তুলনা করার কাজে ব্যবহার করি। অনেক অভিভাবক নিজেদের একাধিক সন্তানের মধ্যে এমন তুলনা এনে একটা প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেন নিজের ঘরেই। দেখা যায় নিজের মনমতো করে গড়তে তাদের এমন চাপ প্রয়োগ করেন মা-বাবা, যা কিছু কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনেও গড়ায়।
আবার অনেক সময় এমন হয় যে সন্তানদের মধ্যে ভালো কিছু দেখলেও আমরা তা এড়িয়ে যাই। আমাদের মধ্যে চিরায়ত একটা ধারণা—প্রশংসাসূচক কথা বললে সন্তান যদি নষ্ট হয়ে যায়! এটা যে সন্তানের মনে কী গভীর ক্ষত তৈরি করে, তা হয়তো একটু ভাবলে নিজেরাই বুঝতে পারব।

সন্তানদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না, যদি নেতিবাচক ভাষার ব্যবহার বন্ধ করা যায়। সারাক্ষণ ‘তোকে দিয়ে কিছুই সম্ভব নয়’ শুনতে শুনতে সন্তানদের অবচেতন মনে একসময় সেটাই গেঁথে যেতে পারে এবং ওরা সেটাই অনুকরণ করতে থাকে। এমনকি একসময় সেটা সত্যিও হয়ে দাঁড়ায়।

আপনি আপনার সন্তানের সঙ্গে যে ভাষা প্রয়োগ করছেন, তা আসলেই ঠিক কি না অথবা তাকে যা বলে সম্বোধন করছেন তাকে সেভাবেই আপনি দেখতে চান কি না। যদি তা না হয়, তবে ভাষার ব্যাপারে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। দৈনন্দিন জীবনের টানাপোড়নে মা-বাবারও নানা রকম দুঃখ, হতাশা ও মানসিক চাপের মধ্যে যায়। তাই হঠাৎ রেগে যাওয়াটা আমাদের মধ্যে আসতেই পারে। সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমরা যদি একটু খেয়াল করি যে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো ওদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি কি না। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনের সঙ্গে কীভাবে কথা বলছি তা-ও সন্তানদের মধ্যে প্রভাবিত হয় যা তাদের ভাষাকে এবং একই সঙ্গে মানসিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করে।

সন্তানেরা যদি কোনো ভুল করে থাকে চিৎকারেই কি সমস্যার সমাধান হয়? আপনার রাগ ওদের চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আপনার রাগের কথায় যৌক্তিকতা থাকলেও তা তারা বুঝতে পারবে না। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সে হয়তো আপনার কথা শুনছে তবে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায় সে হয়তো কাজটি আবার করছে, আপনাকে লুকিয়ে।

শান্ত ভাষায় ভালো করে কথা বলার মানে কিন্তু এই নয়, আপনি তাদের ভুল প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ভুল সবাই করে, আমাদেরও ভুল হয়ে থাকে। তাই ধৈর্য ধরুন, তাদের কোথায় ভুল হচ্ছে তা ধরিয়ে দিন, ভুলের পরিণাম কী হতো তা সন্তানকে বুঝতে সাহায্য করুন।
আপনি যা বলছেন তা আপনার সন্তানের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রশংসায় ওরা উদ্দীপ্ত ও খুশি হয়। অন্যদের সঙ্গে তুলনা না করে ওদের নিজেদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করুন এবং তাতে বিশ্বাস রাখুন। সবাই এক রকম নয়—এটা মেনে নিয়ে ওরা যা ভালো করতে পারে, তা নিয়েই কথা বলুন। সে ব্যাপারে আগ্রহ দেখান। ওদের সঙ্গে খোলামনে কথা বললে ওরাও আপনার সামনে নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করবে। আপনার এই কথা বলার ধরনই ওদের মধ্যে বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ওদের আত্মমর্যাদাবোধ বাড়াবে এবং জীবনটাকে ইতিবাচকভাবে ভাবতে শেখাবে।

লেখক: প্রভাষক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলর



Newer Posts Older Posts Home

Search This Blog

POPULAR POSTS

Categories

  • Eye Care 1
  • Health Tips 13
  • Healthy Food 2
  • Kids Food 2
  • Kids Health 9
  • Mental Tips 1
Powered by Blogger
  • March 20223
  • May 20211
  • March 20217
  • February 20211
  • January 20216
  • December 20201
  • July 20209

Page-Admin: Mr. Raju Ahmed

Designed by OddThemes | Distributed by Gooyaabi Templates